জীবপ্রযুক্তিতে ইটিপি’র কার্যপ্রণালী ও মূলনীতি ব্যাখ্যা কর।
জীবপ্রযুক্তিভিত্তিক ইটিপি-র মূলনীতি হলো—কৃত্রিম খাদ্যশৃঙ্খল (Food Chain) এবং অণুজীব ও ডেট্রিটাস জীবের সহায়তায় তরল বর্জ্যের ক্ষতিকর জৈব পদার্থগুলোকে প্রাকৃতিকভাবে ভেঙে পরিবেশবান্ধব পানিতে রূপান্তর করা।
প্রাথমিক শোধন শেষে তরল বর্জ্য বা স্লাজকে ফিল্টারের মাধ্যমে জৈব প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটে পাঠানো হয়, যেখানে জৈব উপাদানগুলোর জীব-বিশ্লেষণ (Biodegradation) শুরু হয়।
জীব-বিশ্লেষিত তরল স্লাজকে কৃত্রিমভাবে তৈরি একটি পাত্রে ফোঁটায় ফোঁটায় ফেলা হয়। এই পাত্রে বিভিন্ন ধরনের ডেট্রিটাস জীব—যেমন ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, প্রোটোজোয়া, কৃমি, শামুক ও জলজ কীটপতঙ্গ উপস্থিত থাকে।
খাদ্যশৃঙ্খলের প্রথম ধাপে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক তরল স্লাজের জটিল জৈব বর্জ্যগুলোকে নিজেদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে ভেঙে ফেলে।
দ্বিতীয় ধাপে প্রোটোজোয়া এসে সেই ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকগুলোকে ভক্ষণ করে পানির জৈব ভারসাম্য রক্ষা করে।
খাদ্যশৃঙ্খলের পরবর্তী ধাপে শামুক, কৃমি ও ছোট কীটপতঙ্গ প্রোটোজোয়াগুলোকে খেয়ে বেঁচে থাকে। এর ফলে বর্জ্যের জটিল জৈব উপাদানগুলো সম্পূর্ণ খাদ্যশৃঙ্খলে শোষিত হয়ে দূষণমুক্ত হয়।
- ডেট্রিটাস পাত্রের পানিকে এরপর সেটলিং ট্যাংকে (Settling Tank) নেওয়া হয়, যেখানে তলানিগুলো নিচে জমা হয় এবং স্বচ্ছ পানি ওপরে উঠে আসে।
- নিচে জমা হওয়া স্লাজকে আলাদা করে ডাইজেস্টার ও ড্রাইং বেডে (শুকানোর পাত্র) পাঠানো হয়।
- ওপরের স্বচ্ছ পানিকে জীবাণুমুক্ত করতে ক্লোরিনেশন ট্যাংকে পাঠানো হয়। ক্লোরিনের প্রভাবে ক্ষতিকর প্যাথোজেনিক (রোগ সৃষ্টিকারী) ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটোজোয়া সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়।
ক্লোরিনযুক্ত নিরাপদ ও পরিশোধিত পানি পাইপের মাধ্যমে সংরক্ষণ পুকুরে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে নদী বা সমুদ্রে নিরাপদভাবে নিষ্কাশন করা হয়।
ড্রাইং বেড থেকে প্রাপ্ত শুকনো স্লাজ ক্ষতিকর উপাদানমুক্ত হওয়ায় এটি উৎকৃষ্ট জৈব সার হিসেবে কৃষি জমিতে কিংবা নিচু জমি ভরাটের কাজে ব্যবহার করা হয়।
চিত্র: জীবপ্রযুক্তিভিত্তিক ETP (খাদ্যশৃঙ্খল ও অণুজীবীয় শোধন প্রক্রিয়া)
