চামরা ট্যানিং এর একটি এক-বাথ পদ্ধতি ও টু-বাথ পদ্ধতি ব্যাখ্যা কর।
কার্যপ্রণালি: সাধারণত দুটি পদ্ধতিতে ক্রোম ট্যানিং সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। একটি টু-বাথ (Two-bath) পদ্ধতি অপরটি ওয়ান-বাথ (One-bath) পদ্ধতি। বর্তমানে ওয়ান-বাথ পদ্ধতিও নিষিদ্ধ, কারণ এক্ষেত্রে হেক্সাঅ্যাকুয়া ক্রোমিয়াম (III) সালফেট [[Cr(H2O)6]2(SO4)3] কে ব্যবহার করার কারণে পরিবেশ দূষণের মাত্রা অধিক হয়। এর মধ্যে টু-বাথ পদ্ধতি দ্রুত ও সহজ পদ্ধতি হওয়ায় অধিক প্রচলিত।
এক বাথ ট্যানিং-এ সোডিয়াম ডাইক্রোমেট (Na2Cr2O7) দ্রবণের মধ্যে সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2) অথবা গ্লুকোজ যোগ করে বিজারণের মাধ্যমে ক্ষারকীয় ক্রোমিক সালফেট উৎপন্ন করা হয়।
এই ক্রোম লিকারের জলীয় দ্রবণে চামড়াকে ডোবানো হয় এবং এতে খাবার লবণ (NaCl) রাখা হয়। চামড়াকে প্রত্যেক তরলে ১ রাত রেখে দিয়ে পরের দিন দ্রবণ সরতে দিতে হয়। ১-২ ঘণ্টা পর চামড়াকে অন্য একটি বিজারণ ড্রামে নেয়া হয়। সেখানে ১৫% সোডিয়াম থায়োসালফেট (Na2S2O3) দ্রবণ থাকে। চামড়াকে এখানে ১ রাত রাখার পর পানিতে ধৌত করে চামড়ার এসিডীয় ধর্ম হ্রাস করার লক্ষ্যে থিতানো ড্রামে বোরাক্স যোগ করা হয়। এরপর পানি দ্বারা ধৌত করার পর সমাপ্তি ধাপে যাওয়া হয়।
বেটিং ও পিকলিং করা চামড়াকে একটি প্যাডেলের মধ্যে নেওয়া হয়। এখানে চামড়ার ওজনের ওপর ভিত্তি করে Cr এর যৌগ ও H2SO4 কে মিশ্রিত করা হয়। সাধারণভাবে এক পাউন্ড ওজনের চামড়ার সাথে ৫ পাউন্ড ওজনের Na2Cr2O7 (৫-৬%) এবং H2SO4 (৩৩%) মিশ্রণের ২.৫ – ৩% দ্রবণকে প্যাডেলে যোগ করা হয়।
প্যাডেলকে ঘোরানো হয় এবং এখানে চামড়াকে প্রায় ৩-৫ ঘণ্টা রাখা হয়। ফলে চামড়া ক্রোমিক এসিড শোষণ করে এবং চামড়ার ওপর সর্বত্র হলুদ বর্ণ ধারণ করে। এ পর্যায়েই চামড়ার লিংকেজ Cr দ্বারা পূর্ণ হয়ে Cr মৌল চামড়ার ভেতরের প্রোটিনের সাথে বন্ড তৈরি করে জটিল Cr ট্যানিং চামড়া তৈরি করে থাকে।
চামড়াকে প্যাডেল হতে তুলে এনে অতিরিক্ত লিকারকে অপসারিত করা হয় এবং ক্রোম চামড়াকে ২য় প্যাডেলে নেওয়া হয়। এ প্যাডেলের মধ্যে সোডিয়াম থায়োসালফেট [Na2S2O3 (১৫-২০%)] ও হাইড্রোক্লোরিক এসিড [HCl (৩৩%)] মিশ্রণের ৬-১০% দ্রবণ থাকে। এখানেও চামড়াকে নাড়াচাড়া করা হয়। ফলে চামড়ার হলুদ বর্ণ পরিবর্তিত হয়। সম্পূর্ণভাবে হলুদ বর্ণ দূরীভূত না হওয়া পর্যন্ত প্যাডেলের দ্রবণের মধ্যে ধীরে ধীরে HCl যোগ করা হয়। এ রূপ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে প্রায় ২৪-৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে।
পরিশেষে চামড়াকে প্যাডেল থেকে উঠিয়ে একে গ্লুকোজের দ্রবণে ডুবানো হয়। এতে হলুদ বর্ণের ক্রোম রং সম্পূর্ণরূপে দ্রবীভূত হয়। অতঃপর একে গ্লুকোজের দ্রবণ থেকে উঠিয়ে শুকালে ক্রোম লেদার পাওয়া যায়।
