প্রভাবন পদ্ধতিতে ইটিপি (Catalytic ETP)-র কার্যপ্রণালী ও মূলনীতি ব্যাখ্যা কর।
প্রভাবন পদ্ধতিতে ইটিপি বা প্রভাবকীয় জারণ (Catalytic Oxidation) ব্যবস্থার মূলনীতি হলো—কারখানার বর্জ্য পানিতে থাকা জটিল ও অ-জীববিশ্লেষ্য (Non-biodegradable) বিষাক্ত জৈব যৌগগুলোকে একটি উপযুক্ত প্রভাবকের (যেমন: Fe2+, Fe3+, TiO2 বা ধাতব অক্সাইড) উপস্থিতিতে তীব্র জারক (যেমন: H2O2 বা O3) দ্বারা জারিত করে ক্ষতিকর দূষকগুলোকে পরিবেশবান্ধব সরল অণু (CO2, H2O) এবং নিরাপদ খনিজ লবণে ভেঙে ফেলা।
প্রভাবকীয় ইটিপিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ফেন্টন পদ্ধতি (Fenton’s Process)। এতে বর্জ্য পানিতে প্রভাবক হিসেবে ফেরাস সালফেট (FeSO4 বা Fe2+) এবং জারক হিসেবে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (H2O2) যোগ করা হয়। প্রভাবকের প্রভাবে নিমেষেই অতি-সক্রিয় হাইড্রক্সিল ফ্রি-র্যাডিক্যাল (•OH) উৎপন্ন হয়:
(ফটো-প্রভাবন বা Photocatalysis-এর ক্ষেত্রে TiO2 প্রভাবকের ওপর UV আলো ফেলে একই ধরণের সক্রিয় র্যাডিক্যাল তৈরি করা হয়।)
উৎপন্ন হাইড্রক্সিল ফ্রি-র্যাডিক্যাল (•OH) অত্যন্ত শক্তিশালী জারক হিসেবে কাজ করে। এটি বর্জ্য পানিতে উপস্থিত টেক্সটাইল ডাই (রঞ্জক), সারফ্যাক্ট্যান্ট, ফেনল, কীটনাশক ও জটিল কৃত্রিম পলিমারের কার্বন-কার্বন বন্ধন আক্রমণ করে ভেঙে ফেলে। এর ফলে জটিল জৈব দূষক সম্পূর্ণ জারিত হয়ে নিরাপদ উপাদানে পরিণত হয়:
তীব্র জারণ ক্ষমতার কারণে উৎপন্ন ফ্রি-র্যাডিক্যালগুলো পানিতে থাকা রোগ সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার কোষঝিল্লি এবং ভাইরাসের প্রোটিন আবরণ জারিত করে নষ্ট করে দেয়, ফলে পানি সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত হয়।
বিক্রিয়া শেষে পানিতে ক্ষার বা চুন যোগ করে pH মান ৭–৮ এ উন্নীত করা হয়। এতে প্রথম ধাপে উৎপন্ন ফেরিক আয়ন (Fe3+) অদ্রবণীয় ফেরিক হাইড্রোক্সাইড [Fe(OH)3] হিসেবে অধঃক্ষিপ্ত (Precipitate) হয়:
এই অধঃক্ষেপটি অবশিষ্ট ভাসমান সূক্ষ্ম কণাগুলোকে নিজের সাথে জমাট বাঁধিয়ে ভারী তলানি (Sludge) হিসেবে পাত্রের নিচে থিতিয়ে ফেলে।
চিত্র: প্রভাবন ভিত্তিক ETP (Fenton Reaction ও Catalytic Oxidation প্লান্টের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী)
