স্থায়ী মূল কণিকা,অস্থায়ী মূল কণিকা,কম্পোজিট কণিকা,আইসোটোপ,আইসোবার এবং আইসোটোনের বিস্তারিত
উদাহরণ: হাইড্রোজেনের পরমাণু (H), অক্সিজেনের পরমাণু (O)।
উদাহরণ: পজিট্রন, নিউট্রিনো, অ্যান্টি-নিউট্রিনো, মেসন ইত্যাদি।
উদাহরণ: আলফা কণা (α-particle / 42He2+) ও ডিউটেরন কণা (21H+)।
আবিষ্কার: ১৮৯৭ সালে স্যার জে. জে. থমসন ক্যাথোড রশ্মি নল পরীক্ষার মাধ্যমে ইলেকট্রন আবিষ্কার করেন।
সংজ্ঞা: পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে নির্দিষ্ট শক্তিস্তরে ঘূর্ণায়মান ঋণাত্মক আধানযুক্ত মূল কণিকাকে ইলেকট্রন বলে।
প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- প্রকৃত ভর: 9.1095 × 10−28 g বা 9.1095 × 10−31 kg। এটি একটি হাইড্রোজেন পরমাণু বা প্রোটনের ভরের প্রায় ১/১৮৩৭ (বা ১৮৪০) ভাগ।
- প্রকৃত চার্জ: −1.602 × 10−19 C (কুলম্ব), −1.602 × 10−20 emu, অথবা −4.8 × 10−10 esu।
- আপেক্ষিক চার্জ: −1
- প্রতীক: e− বা 0−1e
আবিষ্কার: ১৮৮৬ সালে ইউজেন গোল্ডস্টাইন ক্যানাল রশ্মি পর্যবেক্ষণে এর অস্তিত্ব লক্ষ্য করেন এবং ১৯১৯ সালে আর্নেস্ট রাদারফোর্ড প্রমাণ করেন যে এটি পরমাণুর একটি স্থায়ী মূল কণিকা।
সংজ্ঞা: পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত ধনাত্মক আধানযুক্ত মূল কণিকাকে প্রোটন বলে।
প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- প্রকৃত ভর: 1.6726 × 10−24 g বা 1.6726 × 10−27 kg।
- প্রকৃত চার্জ: +1.602 × 10−19 C (কুলম্ব) বা +4.8 × 10−10 esu।
- আপেক্ষিক চার্জ: +1
- প্রতীক: p, p+ বা 11H বা 11p
আবিষ্কার: ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী জেমস চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
সংজ্ঞা: পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত চার্জহীন বা তড়িৎ-নিরপেক্ষ মূল কণিকাকে নিউট্রন বলে।
প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- প্রকৃত ভর: 1.6749 × 10−24 g বা 1.6749 × 10−27 kg (স্থায়ী কণিকাত্রয়ের মধ্যে সবচেয়ে ভারী; ইলেকট্রনের ভরের প্রায় ১৮৩৯ গুণ)।
- প্রকৃত চার্জ: 0 (চার্জ নিরপেক্ষ)।
- আপেক্ষিক চার্জ: 0
- প্রতীক: n বা 10n
- বিশেষ তথ্য: সাধারণ হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম (11H) এর নিউক্লিয়াসে কোনো নিউট্রন থাকে না।
| কণিকা | আবিষ্কারক ও সাল | অবস্থান | প্রকৃত চার্জ | আপেক্ষিক চার্জ | প্রকৃত ভর | আপেক্ষিক ভর |
|---|---|---|---|---|---|---|
| ইলেকট্রন (e−) | জে. জে. থমসন (১৮৯৭) | নিউক্লিয়াসের বাইরে শক্তিস্তরে | −1.602 × 10−19 C (−4.8 × 10−10 esu) |
−1 | 9.1095 × 10−28 g (9.1095 × 10−31 kg) |
১/১৮৩৭ (0.000548 amu) |
| প্রোটন (p) | আর্নেস্ট রাদারফোর্ড (১৯১৯) | নিউক্লিয়াসের ভেতরে | +1.602 × 10−19 C (+4.8 × 10−10 esu) |
+1 | 1.6726 × 10−24 g (1.6726 × 10−27 kg) |
1 (1.00727 amu) |
| নিউট্রন (n) | জেমস চ্যাডউইক (১৯৩২) | নিউক্লিয়াসের ভেতরে | 0 (নিরপেক্ষ) | 0 | 1.6749 × 10−24 g (1.6749 × 10−27 kg) |
1 (1.00866 amu) |
সংজ্ঞা: যেসব সূক্ষ্ম কণিকা পরমাণুর মধ্যে সব সময় স্থায়ীভাবে থাকে না, বরং বিশেষ অবস্থায় অতি অল্প সময়ের জন্য সৃষ্টি হয়ে আবার বিলুপ্ত হয়ে যায়, তাদেরকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলে।
প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- এদের আয়ুষ্কাল বা স্থায়িত্বকাল অত্যন্ত ক্ষণস্থায়ী।
- পরমাণুতে এদের সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়; বিজ্ঞানীদের মতে এদের সংখ্যা প্রায় ১০০ বা তারও বেশি।
- এরা পরমাণুর স্থায়ী কাঠামো গঠনে অংশ নেয় না।
উদাহরণ: মেসন, পজিট্রন, পাইয়ন, নিউট্রিনো ও অ্যান্টি-নিউট্রিনো।
সংজ্ঞা: পরমাণুর স্থায়ী ও অস্থায়ী মূল কণিকা ছাড়াও কখনো কখনো নিউক্লিয়াসে যেসব অপেক্ষাকৃত ভারী এবং যৌগিক কণার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, তাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলে।
প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- এরা কোনো একক মৌলিক কণা নয়, বরং একাধিক কণার মিলনে গঠিত ভারী কণিকা।
- নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় বা বিশেষ তেজস্ক্রিয় ভাঙনের সময় এদের ভূমিকা দেখা যায়।
উদাহরণ:
- আলফা কণা (α-কণা): দ্বি-ধনাত্মক আধানযুক্ত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস (42He2+)।
- ডিউটেরন কণা: ভারী হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াস (একটি প্রোটন ও একটি নিউট্রনের সমন্বয়ে গঠিত: 21H+ বা 21D+)।
- আইসোটোপ (শেষে ‘প’): প্রোটন সংখ্যা সমান।
- আইসোবার (শেষে ‘ব/র’): ভর সংখ্যা সমান।
- আইসোটোন (শেষে ‘ন’): নিউট্রন সংখ্যা সমান।
সংজ্ঞা: যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা (বা পারমাণবিক সংখ্যা) সমান কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ার কারণে ভরসংখ্যা ভিন্ন হয়, তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
উৎপত্তি: গ্রিক শব্দ Iso (একই) এবং Topos (স্থান) থেকে এসেছে; কারণ পর্যায় সারণিতে এরা একই ঘরে অবস্থান করে।
প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- এরা একই মৌলের ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু।
- এদের ইলেকট্রন বিন্যাস অভিন্ন হওয়ায় রাসায়নিক ধর্ম একই থাকে।
- ভর ভিন্ন হওয়ায় এদের ভৌত ধর্মে (যেমন: স্ফুটনাঙ্ক, ঘনত্ব) সামান্য পার্থক্য দেখা যায়।
- পর্যায় সারণিতে এদের অবস্থান একই স্থানে।
উদাহরণ:
- হাইড্রোজেন: মোট আইসোটোপ ৭টি, তবে প্রকৃতিতে ৩টি পাওয়া যায়:
- প্রোটিয়াম বা সাধারণ হাইড্রোজেন (11H) — নিউট্রন সংখ্যা = 1 − 1 = 0
- ডিউটেরিয়াম (21H বা D) — নিউট্রন সংখ্যা = 2 − 1 = 1
- ট্রিটিয়াম (31H বা T) — নিউট্রন সংখ্যা = 3 − 1 = 2
- কার্বন: কার্বনের প্রকৃতিতে প্রাপ্ত আইসোটোপ ৩টি: 126C, 136C এবং 146C। এর মধ্যে প্রথম দুটি সুস্থিত (Stable) এবং 146C তেজস্ক্রিয়।
- অক্সিজেন: অক্সিজেনের সুস্থিত আইসোটোপ ৩টি: 168O, 178O ও 188O।
সংজ্ঞা: যেসব পরমাণুর ভরসংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন হয়, তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলে।
উৎপত্তি: গ্রিক শব্দ Iso (একই) এবং Baros (ভর বা ওজন) থেকে এসেছে।
প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- এরা সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু।
- এদের পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন হওয়ায় ইলেকট্রন বিন্যাস ও রাসায়নিক ধর্ম সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়।
- পর্যায় সারণিতে এরা ভিন্ন ভিন্ন ঘরে অবস্থান করে।
উদাহরণ:
- 4018Ar, 4019K এবং 4020Ca (প্রত্যেকটির ভরসংখ্যা ৪০)
- 146C এবং 147N (উভয়ের ভরসংখ্যা ১৪)
- 6529Cu এবং 6530Zn (উভয়ের ভরসংখ্যা ৬৫)
সংজ্ঞা: যেসব পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ও ভরসংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন হয়, তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে।
প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- এরা ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু।
- এদের প্রোটন সংখ্যা ও ইলেকট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ায় রাসায়নিক ধর্ম ভিন্ন হয়।
- পর্যায় সারণিতে এরা ভিন্ন ভিন্ন স্থানে অবস্থান করে।
উদাহরণ:
- 3014Si, 3115P এবং 3216S
- 3014Si এর নিউট্রন সংখ্যা = 30 − 14 = 16
- 3115P এর নিউট্রন সংখ্যা = 31 − 15 = 16
- 3216S এর নিউট্রন সংখ্যা = 32 − 16 = 16
- 146C এবং 168O (উভয়ের নিউট্রন সংখ্যা = 14 − 6 = 16 − 8 = 8)
- 31H এবং 42He (উভয়ের নিউট্রন সংখ্যা = 3 − 1 = 4 − 2 = 2)
| বৈশিষ্ট্যের বিষয় | আইসোটোপ | আইসোবার | আইসোটোন |
|---|---|---|---|
| প্রোটন সংখ্যা (Z) | সমান | ভিন্ন | ভিন্ন |
| ভরসংখ্যা (A) | ভিন্ন | সমান | ভিন্ন |
| নিউট্রন সংখ্যা (N = A − Z) | ভিন্ন | ভিন্ন | সমান |
| মৌলের পরিচয় | একই মৌলের পরমাণু | ভিন্ন মৌলের পরমাণু | ভিন্ন মৌলের পরমাণু |
| পর্যায় সারণিতে স্থান | একই স্থান | ভিন্ন স্থান | ভিন্ন স্থান |
| রাসায়নিক ধর্ম | অভিন্ন / একই | ভিন্ন | ভিন্ন |
| প্রধান উদাহরণ | 11H, 21H, 31H 126C, 136C, 146C |
4018Ar, 4020Ca 146C, 147N |
3014Si, 3115P, 3216S 146C, 168O |
