CFC এর ব্যবহার, ক্ষতিকর প্রভাব ও ওজোন স্তর ক্ষয়ের প্রভাবের রিস্তারিত
CFC এর ব্যবহার ও ওজোন স্তর ক্ষয়
প্রশ্ন: CFC কী? এর বৈশিষ্ট্য লিখ।
উত্তর: মিথেন ও ইথেনের ফ্লোরিন ও ক্লোরিন জাতকসমূহকে CFC বলে। CFC গ্যাসের বাণিজ্যিক নাম ফ্রিয়ন। এদের মধ্যে ফ্রিয়ন-11 (CCl₃F), ফ্রিয়ন-12 (CCl₂F₂) এবং ফ্রিয়ন-114 (CClF₂–CClF₂) উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও CHClF₂ (HCFC-22), হ্যালোন-1211 (CF₂BrCl) এবং হ্যালোন-1301 (CF₃Br) পরিচিত যৌগ।
বৈশিষ্ট্য: CFC নিম্ন গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট, গন্ধহীন, অদাহ্য, নিষ্ক্রিয়, পানিতে অদ্রবণীয় এবং অবিষাক্ত। CFC-এর সবচেয়ে বড় গুণ হলো এর স্ফুটনাঙ্ক কক্ষ তাপমাত্রার কাছাকাছি হওয়ায় সামান্য চাপে একে তরলে পরিণত করে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায়। যেমন: CFC-11 (CCl₃F) এবং CFC-12 (CCl₂F₂)-এর স্ফুটনাঙ্ক যথাক্রমে ২৩.৮°C এবং -২৯.৮°C (সংশোধিত)।
বৈশিষ্ট্য: CFC নিম্ন গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট, গন্ধহীন, অদাহ্য, নিষ্ক্রিয়, পানিতে অদ্রবণীয় এবং অবিষাক্ত। CFC-এর সবচেয়ে বড় গুণ হলো এর স্ফুটনাঙ্ক কক্ষ তাপমাত্রার কাছাকাছি হওয়ায় সামান্য চাপে একে তরলে পরিণত করে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায়। যেমন: CFC-11 (CCl₃F) এবং CFC-12 (CCl₂F₂)-এর স্ফুটনাঙ্ক যথাক্রমে ২৩.৮°C এবং -২৯.৮°C (সংশোধিত)।
প্রশ্ন: CFC-12 ও CFC-11 এর উৎপাদনের মূলনীতি লিখ।
উত্তর: CCl₄ এবং HF-এর মিশ্রণকে SbCl₅-এর উপস্থিতিতে বিক্রিয়া করালে CFC-12 উৎপন্ন হয়।
CFC-11 এবং CFC-12-এর একত্রে উৎপাদন: CCl₄ এবং HF-কে (C + FeCl₂) এর উপস্থিতিতে 300°C উত্তপ্ত করলে CFC-11 এবং CFC-12 পাওয়া যায়।
CCl₄ + 2HF → CCl₂F₂ + 2HCl
CFC-11 এবং CFC-12-এর একত্রে উৎপাদন: CCl₄ এবং HF-কে (C + FeCl₂) এর উপস্থিতিতে 300°C উত্তপ্ত করলে CFC-11 এবং CFC-12 পাওয়া যায়।
2CCl₄ + 3HF → CCl₂F₂ + CCl₃F + 3HCl
প্রশ্ন: CFC এর ব্যবহারসমূহ লিখ।
উত্তর:
- কীটনাশক ও পোকামাকড় দমনের জন্য বিষাক্ত দ্রবণ তৈরিতে দ্রাবক হিসেবে CFC ব্যবহার করা হয়।
- শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ইনহেলার, মেডিক্যাল স্প্রে প্রভৃতি ক্ষেত্রে CFC ব্যবহার করা হয়।
- সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি পরিষ্কারকরণে CFC ব্যবহার করা হয়।
- CFC-এর স্ফুটনাঙ্ক কম হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের রেফ্রিজারেশন এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ব্যবহার করা হয়।
- অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে CFC যৌগের ব্যবহার রয়েছে।
প্রশ্ন: ওজোন স্তর কাকে বলা হয়?
উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার বা শান্তমণ্ডলের মধ্যে ১৫-৩০ কি.মি. (মতান্তরে ২০-৫০ কিমি) উচ্চতার মধ্যে ওজোন গ্যাসযুক্ত যে বায়ুস্তরটি রয়েছে তাকে ওজোন মণ্ডল বা ওজোন স্তর বলা হয়।
প্রশ্ন: ওজোন গহ্বর কি?
উত্তর: পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে ২০-৩০ কিলোমিটার উচ্চতায় স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে অবস্থিত ওজোন স্তরের ওজোন ক্ষয় হওয়ার ফলে যে গহ্বর সৃষ্টি হয়, তাকে ওজোন হোল বলে। বিজ্ঞানী ফারম্যান ওজোন স্তরের ক্ষয়কে ওজোন হোল নামে চিহ্নিত করেন।
প্রশ্ন: ওজোনস্তর ধ্বংসের কৌশল ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: CFC অতিমাত্রায় স্থিতিশীল হওয়ার কারণে এরা বিভিন্ন উৎস থেকে বিমুক্ত হয়ে অপরিবর্তিত অবস্থায় বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে পৌঁছায়। এ স্তরে রয়েছে ওজোন (O₃), যা সূর্য থেকে প্রাপ্ত অতিবেগুনি (ultraviolet) রশ্মিকে শোষণ করে এবং আমাদেরকে এর ক্ষতিকারক প্রভাব (ক্যান্সার সৃষ্টিতে সহায়ক) থেকে রক্ষা করে। এজন্য একে ‘পৃথিবীর ছাতা’ বলা হয়। এ ছাতাটি অধুনা ক্ষয় হয়ে ‘ওজোন ছিদ্র’ (ozone hole) সৃষ্টি হচ্ছে। ওজোনস্তর ধ্বংসের কৌশল নিম্নরূপ:
১. প্রাকৃতিকভাবে সৌরকিরণে বায়ুর N₂ ও O₂ সংযোগে N₂O উৎপন্ন হয়, যা আলোক রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় (photochemical process) ওজোনস্তর ক্ষয় করে।
২. ওজোনস্তর ক্ষয়ের প্রধান কারণ হলো মানবিক কর্মকাণ্ডে বিমুক্ত CFC। CFC অতিমাত্রায় স্থিতিশীল। সূর্য থেকে আসা অতিবেগুনি রশ্মি দ্বারা CFC সমূহ ফ্রি-র্যাডিক্যাল বিক্রিয়ার মাধ্যমে ওজোনস্তরকে ভেঙে অক্সিজেনে পরিণত করে। ফটোলাইসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্লোরিন ফ্রি র্যাডিক্যাল উৎপন্ন হয়।
১. প্রাকৃতিকভাবে সৌরকিরণে বায়ুর N₂ ও O₂ সংযোগে N₂O উৎপন্ন হয়, যা আলোক রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় (photochemical process) ওজোনস্তর ক্ষয় করে।
২. ওজোনস্তর ক্ষয়ের প্রধান কারণ হলো মানবিক কর্মকাণ্ডে বিমুক্ত CFC। CFC অতিমাত্রায় স্থিতিশীল। সূর্য থেকে আসা অতিবেগুনি রশ্মি দ্বারা CFC সমূহ ফ্রি-র্যাডিক্যাল বিক্রিয়ার মাধ্যমে ওজোনস্তরকে ভেঙে অক্সিজেনে পরিণত করে। ফটোলাইসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্লোরিন ফ্রি র্যাডিক্যাল উৎপন্ন হয়।
a. CFC → Cl•
b. Cl• + O₃ → ClO• + O₂ এবং O₂ → 2O•
c. ClO• + O• → Cl• + O₂
d. ClO• + O₃ → ClO₂ + O₂
এ সকল বিক্রিয়া শিকলের ন্যায় চলতেই থাকে। ফলে একটি ক্লোরিন ফ্রি র্যাডিক্যাল হাজার হাজার ওজোন অণুকে ধ্বংস করে। এতে ওজোনস্তরে ছিদ্র সৃষ্টি হয়।b. Cl• + O₃ → ClO• + O₂ এবং O₂ → 2O•
c. ClO• + O• → Cl• + O₂
d. ClO• + O₃ → ClO₂ + O₂
প্রশ্ন: ওজোন স্তর ক্ষয়ের ক্ষতিকর প্রভাব ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মানুষের উপর প্রভাব: UV রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে এলে মানুষের ত্বকে ক্যান্সার ও চোখে অসময়ে ছানি পড়বে। এছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, শ্বাসনালীর প্রদাহ, ব্রংকাইটিস ও ফুসফুসের বিভিন্ন রোগ হয়।
উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর উপর প্রভাব: UV রশ্মির প্রভাবে সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হয়, ফলে খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পায়। ফাইটোপ্লাঙ্কটনের উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় মাছসহ অন্যান্য জলজ জীবের উৎপাদন হ্রাস পাবে। ফল ও বীজের উৎকর্ষতা হ্রাস পাবে।
জলবায়ুর উপর প্রভাব: পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে, মেরু অঞ্চলের বরফ গলন বৃদ্ধি পাবে এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় নিম্নভূমি তলিয়ে যাবে।
উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর উপর প্রভাব: UV রশ্মির প্রভাবে সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হয়, ফলে খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পায়। ফাইটোপ্লাঙ্কটনের উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় মাছসহ অন্যান্য জলজ জীবের উৎপাদন হ্রাস পাবে। ফল ও বীজের উৎকর্ষতা হ্রাস পাবে।
জলবায়ুর উপর প্রভাব: পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে, মেরু অঞ্চলের বরফ গলন বৃদ্ধি পাবে এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় নিম্নভূমি তলিয়ে যাবে।
প্রশ্ন: ওজোনস্তর ক্ষয়ের রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো বর্ণনা কর।
উত্তর: ওজোনস্তর ক্ষয় রোধে ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে কানাডায় ‘মন্ট্রিয়াল প্রোটোকল’ স্বাক্ষরিত হয়। ব্যবস্থাগুলো হলো:
(i) ১৯৯৫ সালের মধ্যে CFCs ও হ্যালোনস্ উৎপাদন বন্ধ করা;
(ii) CCl₄, CH₃Br ও মিথাইল ক্লোরোফরম ধারাবাহিকভাবে বন্ধ করা;
(iii) CFC-এরোসলে হাইড্রোকার্বন যেমন; আইসোবিউটেন ব্যবহার করা;
(iv) রেফ্রিজারেটরে HCFCs ব্যবহার করা (এগুলো ট্রপোস্ফিয়ারে কম স্থায়ী);
(v) ২০৪০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে HCFCs বাদ দিয়ে HFCs ব্যবহার করা।
(i) ১৯৯৫ সালের মধ্যে CFCs ও হ্যালোনস্ উৎপাদন বন্ধ করা;
(ii) CCl₄, CH₃Br ও মিথাইল ক্লোরোফরম ধারাবাহিকভাবে বন্ধ করা;
(iii) CFC-এরোসলে হাইড্রোকার্বন যেমন; আইসোবিউটেন ব্যবহার করা;
(iv) রেফ্রিজারেটরে HCFCs ব্যবহার করা (এগুলো ট্রপোস্ফিয়ারে কম স্থায়ী);
(v) ২০৪০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে HCFCs বাদ দিয়ে HFCs ব্যবহার করা।
প্রশ্ন: ওজোন স্তর UV রশ্মি থেকে আমাদেরকে কীভাবে রক্ষা করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: সূর্য রশ্মির সাথে UV রশ্মি নির্গত হয় যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। O₃ স্তর এই UV রশ্মি শোষণ করে রাখে। UV রশ্মি পৃথিবীতে প্রবেশ করলে ত্বকে ক্যান্সার সৃষ্টি করে এবং মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে। O₃ স্তর UV রশ্মি শোষণ করে আমাদেরকে এর ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষা করে।
প্রশ্ন: গ্রিনহাউস গ্যাস কী?
উত্তর: যে সব গ্যাস ভূপৃষ্ঠের বিকিরিত IR রশ্মিকে শোষণ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, তাদেরকে গ্রিনহাউস গ্যাস বলে।
প্রশ্ন: ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: বায়ুমণ্ডলের ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন হোমোস্ফিয়ারে N₂, O₂, O₃ অণুর সাথে CO₂ ও H₂O অণুগুলো থাকে। এ অঞ্চলকে পৃথিবীর গ্রিনহাউস বলে। ভূপৃষ্ঠ দৃশ্যমান আলো দ্বারা উত্তপ্ত হয়, কিন্তু উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠ বৃহৎ তরঙ্গযুক্ত ইনফ্রারেড রশ্মি (IR) বিকিরণ করে। IR রশ্মি কাচ ভেদ করতে পারে না। বায়ুমণ্ডলের CO₂ ও পানি বাষ্প (H₂O) পোলার অণু হওয়ায় এবং N₂O, CFC ইত্যাদি পোলার হওয়ায় এরা বিকিরিত IR রশ্মি শোষণ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। CO₂ ও পানি বাষ্প দ্বারা শোষিত তাপ পুনরায় বিকিরিত হয়ে ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে। এরূপে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। N₂, H₂ ও O₂ এর গ্রিনহাউস প্রভাব নেই।
প্রশ্ন: CO একটি নীরব ঘাতক কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: বিভিন্ন শিল্প হতে নিঃসৃত CO একটি নীরব ঘাতক, কারণ এটি স্বাদ, গন্ধ ও বর্ণহীন বিষাক্ত গ্যাস। মানুষ এর অস্তিত্ব টের পায় না। CO সক্রিয় লিগান্ড হিসেবে রক্তের হিমোগ্লোবিনে আয়রনের সাথে জটিল যৌগ গঠন করে। হিমোগ্লোবিন শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ করে কিন্তু CO অক্সিজেনের চেয়ে হিমোগ্লোবিনের প্রতি বেশি আসক্তি দেখায় এবং কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে অক্সিজেন প্রবাহে বাধা দেয়।
O₂ + Hb → O₂Hb (অক্সিহিমোগ্লোবিন)
O₂Hb + CO → COHb (কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন) + O₂
Fe + 5CO → Fe(CO)₅ (আয়রন পেন্টাকার্বনিল)
O₂Hb + CO → COHb (কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন) + O₂
Fe + 5CO → Fe(CO)₅ (আয়রন পেন্টাকার্বনিল)
প্রশ্ন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নে গ্রিনহাউস গ্যাসের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: CO₂, CH₄, N₂O, CFC ইত্যাদি গ্যাস গ্রিনহাউস প্রভাব সৃষ্টি করে। দৃশ্যমান আলোর সব তরঙ্গ গ্রিনহাউসের কাচকে ভেদ করে ভেতরে ঢুকতে পারে। উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠ বৃহৎ তরঙ্গযুক্ত ইনফ্রারেড (IR) রশ্মি বিকিরণ করে, যা কাচ ভেদ করতে পারে না। বায়ুমণ্ডলের CO₂ ও পানি বাষ্প (H₂O) বিকিরিত IR রশ্মি শোষণ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। শোষিত তাপ পুনরায় বিকিরিত হয়ে ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে, ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়।
প্রশ্ন: CO₂ কে গ্রিনহাউস গ্যাস বলা হয় কেন?
উত্তর: বিভিন্ন উৎস থেকে CO₂ গ্যাস বায়ুমণ্ডলে নির্গত হওয়ায় দিনে দিনে এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওজনে ভারী হওয়ায় এটি ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকে। অন্যান্য গ্যাসের তুলনায় CO₂ গ্যাস বেশি তাপধারণ করে, ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। CO₂ গ্যাসের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঘটনা গ্রিনহাউস প্রভাব বলে পরিচিত। এজন্য CO₂ কে গ্রিনহাউস গ্যাস বলা হয়।
প্রশ্ন: CFC পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে—ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: CFC থেকে ক্লোরিন ফ্রি র্যাডিক্যাল উৎপন্ন হয় যা ওজোনস্তরকে ধ্বংস করে। ওজোনস্তরে সৃষ্ট ছিদ্র দিয়ে সূর্য থেকে অতিবেগুনী রশ্মি নির্বিঘ্নে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, এতে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। সুতরাং, CFC পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
প্রশ্ন: পরিবেশের উপর CO₂ ও SO₂ দূষণের প্রভাব লিখ।
উত্তর: CO₂ গ্যাস বায়ুমণ্ডলে বিকিরিত তাপের বেশ খানিকটা অংশ মহাশূন্যে হারিয়ে যেতে না দিয়ে ধরে রাখে, এতে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। CO₂ ও SO₂ বাতাসের অক্সিজেন ও পানির সাথে বিক্রিয়ার মাধ্যমে কার্বনিক এসিড, সালফিউরাস এসিড ও সালফিউরিক এসিড উৎপাদন করে এবং এসিড বৃষ্টি ঘটায়। এতে জলাশয়ের মাছ মরে যায়, মাটিতে ফসল ফলে না এবং দালানকোঠা ব্যাপকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
ক. জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (মান – ১)
ওজোন স্তর কাকে বলা হয়?
উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার বা শান্তমণ্ডলের মধ্যে ১৫-৩০ কি.মি. (মতান্তরে ২০-৫০ কিমি) উচ্চতার মধ্যে ওজোন গ্যাসযুক্ত যে বায়ুস্তরটি রয়েছে তাকে ওজোন মণ্ডল বা ওজোন স্তর বলা হয়।
ওজোন গহ্বর কি?
উত্তর: পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে ২০-৩০ কিলোমিটার উচ্চতায় স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে অবস্থিত ওজোন স্তরের ওজোন ক্ষয় হওয়ার ফলে যে গহ্বর সৃষ্টি হয়, তাকে ওজোন হোল বলে। বিজ্ঞানী ফারম্যান ওজোন স্তরের ক্ষয়কে ওজোন হোল নামে চিহ্নিত করেন।
গ্রিনহাউস গ্যাস কী?
উত্তর: যে সব গ্যাস ভূপৃষ্ঠের বিকিরিত IR রশ্মিকে শোষণ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, তাদেরকে গ্রিনহাউস গ্যাস বলে।
CFC কী?
উত্তর: মিথেন ও ইথেনের ফ্লোরিন ও ক্লোরিন জাতকসমূহকে CFC বলে।
CFC গ্যাসের বাণিজ্যিক নাম কী?
উত্তর: CFC গ্যাসের বাণিজ্যিক নাম ফ্রিয়ন।
খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর (মান – ২)
প্রশ্ন: ওজোনস্তর ধ্বংসের কৌশল ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: CFC অতিমাত্রায় স্থিতিশীল হওয়ার কারণে এরা বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে পৌঁছায়। অতিবেগুনি রশ্মি দ্বারা CFC ফটোলাইসিস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্লোরিন ফ্রি র্যাডিক্যাল উৎপন্ন করে। এই র্যাডিক্যাল ওজোনের সাথে বিক্রিয়া করে ওজোনস্তরকে ভেঙে ফেলে।
a. CFC → Cl•
b. Cl• + O₃ → ClO• + O₂ এবং O₂ → 2O•
c. ClO• + O• → Cl• + O₂
d. ClO• + O₃ → ClO₂ + O₂
এভাবে একটি ক্লোরিন ফ্রি র্যাডিক্যাল হাজার হাজার ওজোন অণুকে ধ্বংস করে ওজোনস্তরে ছিদ্র সৃষ্টি করে।b. Cl• + O₃ → ClO• + O₂ এবং O₂ → 2O•
c. ClO• + O• → Cl• + O₂
d. ClO• + O₃ → ClO₂ + O₂
প্রশ্ন: ওজোন স্তর ক্ষয়ের ক্ষতিকর প্রভাব ব্যাখ্যা কর।
মানুষের উপর প্রভাব: UV রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে এলে মানুষের ত্বকে ক্যান্সার, ছানি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, শ্বাসনালীর প্রদাহ ও ফুসফুসের রোগ হয়।
উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর উপর প্রভাব: সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হয়, ফলে খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পায়। জলজ জীবের খাদ্যশৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জলবায়ুর উপর প্রভাব: তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ে।
উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর উপর প্রভাব: সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হয়, ফলে খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পায়। জলজ জীবের খাদ্যশৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জলবায়ুর উপর প্রভাব: তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ে।
প্রশ্ন: ওজোনস্তর ক্ষয়ের রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলো বর্ণনা কর।
উত্তর: ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে ‘মন্ট্রিয়াল প্রোটোকল’ স্বাক্ষরিত হয়। ব্যবস্থাগুলো হলো:
(i) ১৯৯৫ সালের মধ্যে CFCs ও হ্যালোনস্ উৎপাদন বন্ধ করা; (ii) CCl₄, CH₃Br ও মিথাইল ক্লোরোফরম ধারাবাহিকভাবে বন্ধ করা; (iii) CFC-এরোসলে হাইড্রোকার্বন ব্যবহার করা; (iv) রেফ্রিজারেটরে HCFCs ব্যবহার করা এবং (v) ২০৪০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে HFCs ব্যবহার নিশ্চিত করা।
(i) ১৯৯৫ সালের মধ্যে CFCs ও হ্যালোনস্ উৎপাদন বন্ধ করা; (ii) CCl₄, CH₃Br ও মিথাইল ক্লোরোফরম ধারাবাহিকভাবে বন্ধ করা; (iii) CFC-এরোসলে হাইড্রোকার্বন ব্যবহার করা; (iv) রেফ্রিজারেটরে HCFCs ব্যবহার করা এবং (v) ২০৪০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে HFCs ব্যবহার নিশ্চিত করা।
প্রশ্ন: ওজোন স্তর UV রশ্মি থেকে আমাদেরকে কীভাবে রক্ষা করে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: O₃ স্তর সূর্য থেকে নির্গত ক্ষতিকারক UV রশ্মি শোষণ করে রাখে। UV রশ্মি পৃথিবীতে প্রবেশ করলে ত্বকে ক্যান্সার সৃষ্টি করে এবং মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে। তাই ওজোন স্তর UV রশ্মি শোষণ করে আমাদেরকে এর ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষা করে।
প্রশ্ন: ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: ভূপৃষ্ঠ দৃশ্যমান আলো দ্বারা উত্তপ্ত হয়, কিন্তু উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠ বৃহৎ তরঙ্গযুক্ত ইনফ্রারেড রশ্মি (IR) বিকিরণ করে। IR রশ্মি কাচ ভেদ করতে পারে না। বায়ুমণ্ডলের CO₂, পানি বাষ্প, N₂O ও CFC পোলার অণু হওয়ায় এরা বিকিরিত IR রশ্মি শোষণ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। শোষিত তাপ পুনরায় ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসায় তাপমাত্রা বেড়ে যায়।
প্রশ্ন: CO একটি নীরব ঘাতক কেন? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: CO স্বাদ, গন্ধ ও বর্ণহীন বিষাক্ত গ্যাস। এটি রক্তের হিমোগ্লোবিনে আয়রনের সাথে জটিল যৌগ গঠন করে। CO অক্সিজেনের চেয়ে হিমোগ্লোবিনের প্রতি বেশি আসক্তি দেখায় এবং কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে oxygen প্রবাহে বাধা দেয়।
O₂ + Hb → O₂Hb (অক্সিহিমোগ্লোবিন)
O₂Hb + CO → COHb (কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন) + O₂
Fe + 5CO → Fe(CO)₅
O₂Hb + CO → COHb (কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন) + O₂
Fe + 5CO → Fe(CO)₅
প্রশ্ন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নে গ্রিনহাউস গ্যাসের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: CO₂, CH₄, N₂O, CFC ইত্যাদি গ্যাস গ্রিনহাউস প্রভাব সৃষ্টি করে। উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠ বৃহৎ তরঙ্গযুক্ত ইনফ্রারেড (IR) রশ্মি বিকিরণ করে, যা বায়ুমণ্ডলের গ্যাসগুলো শোষণ করে। এই শোষিত তাপ পুনরায় ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে, ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়।
প্রশ্ন: CO₂ কে গ্রিনহাউস গ্যাস বলা হয় কেন?
উত্তর: অন্যান্য গ্যাসের তুলনায় CO₂ গ্যাস বেশি তাপধারণ করে এবং ওজনে ভারী হওয়ায় ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকে। বিভিন্ন উৎস থেকে CO₂ নির্গত হওয়ায় এর পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। এজন্য CO₂ কে গ্রিনহাউস গ্যাস বলা হয়।
প্রশ্ন: CFC পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে—ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: CFC থেকে ক্লোরিন ফ্রি র্যাডিক্যাল উৎপন্ন হয় যা ওজোনস্তরকে ধ্বংস করে। ওজোনস্তরের ছিদ্র দিয়ে অতিবেগুনী রশ্মি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, এতে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। সুতরাং, CFC তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
প্রশ্ন: পরিবেশের উপর CO₂ ও SO₂ দূষণের প্রভাব লিখ।
উত্তর: CO₂ তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। CO₂ ও SO₂ বাতাসের অক্সিজেন ও পানির সাথে বিক্রিয়ায় কার্বনিক এসিড, সালফিউরাস এসিড ও সালফিউরিক এসিড উৎপন্ন করে এসিড বৃষ্টি ঘটায়। এতে মাছ মারা যায়, ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং দালানকোঠা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
গ. বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ) ও উত্তর
১. গ্রিনহাউস প্রভাব সৃষ্টিতে কোন গ্যাসের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি?
উত্তর: (গ) CO₂
২. বায়ুমণ্ডলে মিথেন (CH₄) গ্যাসের বর্তমান পরিমাণ কত?
উত্তর: (খ) ১.৭ ppm
৩. ট্রপোস্ফিয়ারের ওজোন গ্যাসের তাপ ধারণ ক্ষমতা CO₂ অপেক্ষা কত গুণ বেশি?
উত্তর: (খ) ১০ গুণ
৪. সিএফসি (CFC) গ্যাসগুলো বছরে গড়ে কী হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে?
উত্তর: (গ) ৩-৪%
৫. গ্রিনহাউস প্রভাবের ফলে ২০৫০ সাল নাগাদ পৃথিবীর তাপমাত্রা কত ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে?
উত্তর: (ঘ) ৬°C
৬. বরফ গলনের ফলে ২০৮৭ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কত সেমি বৃদ্ধি পেতে পারে?
উত্তর: (খ) ৫০-১০০ সেমি
৭. গ্রিনহাউস প্রভাবের ফলে জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বের কত কোটি (বিলিয়ন) লোক গৃহহীন হতে পারে?
উত্তর: (খ) ১ বিলিয়ন
৮. সমুদ্রের পানির উচ্চতা কত ফুট বাড়লে ঢাকার দক্ষিণাঞ্চল ও সিলেটের হাওড়-বাওড় সাগরে পরিণত হবে?
উত্তর: (গ) ৯ ফুট
৯. গ্রিনহাউস প্রভাবের কারণে বাংলাদেশের কতটি থানা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে?
উত্তর: (খ) ৬২টি
১০. বাংলাদেশের উপকূল রেখা সমুদ্রের পানি বৃদ্ধির ফলে কোন জেলা পর্যন্ত এগিয়ে আসতে পারে?
উত্তর: (খ) যশোর, ফরিদপুর, চাঁদপুর
১১. গ্রিনহাউস প্রভাবের ফলে সুন্দরবনের কতটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে?
উত্তর: (খ) প্রায় ৩৫০টি
১২. গ্রিনহাউস প্রভাবের কারণে কোন দেশের গ্রীষ্মকাল দীর্ঘ হয়ে উঠেছে এবং অক্টোবর-মার্চ পর্যন্ত বৃষ্টি হচ্ছে?
উত্তর: (ক) অস্ট্রেলিয়া
১৩. বাংলাদেশে ‘খরা’ বা Drought-এর গড় স্থিতিকাল কত দিন?
উত্তর: (খ) ১৫-১০০ দিন
১৪. গ্রিনহাউস প্রভাবের কারণে কোন শীতপ্রধান দেশগুলো মরু অঞ্চলে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে?
উত্তর: (ক) রাশিয়া ও কানাডা
১৫. গ্রিনহাউস প্রভাব কমাতে “মানিয়ে নেওয়ার কৌশল” হিসেবে নিচের কোনটি প্রযোজ্য?
উত্তর: (খ) অটোরিকশা ও অটোটেম্পো পর্যায়ক্রমে তুলে দেওয়া
১৬. বাংলাদেশে ‘সাইক্লোন’ বা ঘূর্ণিঝড়ের গড় স্থিতিকাল কত সময়?
উত্তর: (গ) ১-২৪ ঘণ্টা
১৭. নাইট্রাস অক্সাইডের (N₂O) তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা CO₂ এর চেয়ে কত গুণ বেশি?
উত্তর: (গ) ২০০ গুণ
১৮. ওজোন স্তর সূর্য থেকে আগত কত তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্ষতিকারক রশ্মি শোষণ করে?
উত্তর: (খ) ৮০০-২৩০০ nm
১৯. গ্রিনহাউস প্রভাবের কারণে বাংলাদেশের আনুমানিক কত বর্গকিলোমিটার ভূমি জলমগ্ন হতে পারে?
উত্তর: (খ) ২২,০০০ বর্গকিমি
২০. ইটের ভাটায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে গাছের পরিবর্তে কিসের ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে?
উত্তর: (খ) প্রাকৃতিক গ্যাস
