চার্লসের সূত্রের সকল প্রশ্ন এবং উত্তর
পরম তাপমাত্রা স্কেলের সাহায্যে চার্লস-এর সূত্রের প্রতিপাদন
(Formulation of Charles’ and Gay Lussac’s Law by Absolute Temperature Scale)
স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের কোনো গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসের জন্য শূন্য ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (0°C) তাপমাত্রায় নির্ণীত আয়তনের
মনে করি, নির্দিষ্ট চাপে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্যাসের আয়তন t1°C ও t2°C তাপমাত্রায় যথাক্রমে V1 ও V2 হয়। তবে চার্লস সূত্রানুসারে,
অনুরূপভাবে,
(i) সমীকরণকে (ii) সমীকরণ দ্বারা ভাগ করে পাই,
এটিই গ্যাসের তাপমাত্রা ও আয়তনের মধ্যকার সম্পর্ক। অতএব ”স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যেকোনো গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক।„ এটিই চার্লসের সূত্র নামে পরিচিত। বিজ্ঞানী গে-লুস্যাক স্বতন্ত্রভাবে চার্লসের অনুরূপ পরীক্ষা সম্পন্ন করেন বলে এই সূত্রকে গে-লুস্যাক সূত্রও বলা হয়।
নির্দিষ্ট চাপে 0°C তাপমাত্রায় n-গ্রাম অণু বা n-মোল পরিমাণ কোনো গ্যাসের আয়তন V0 হলে তার তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে চার্লসের সূত্র অনুসারে পাই,
একইভাবে, তাপমাত্রা কমতে থাকলে,
চাপ অপরিবর্তিত রেখে যদি কোনো গ্যাসের তাপমাত্রা 0°C হতে –273°C এ হ্রাস করা হয় তবে,
অর্থাৎ -273°C তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তন শূন্য হয়। বাস্তবে এর প্রমাণ সম্ভব নয় কারণ ঐ তাপমাত্রায় পৌঁছার অনেক পূর্বেই গ্যাস কঠিন বা তরল অবস্থায় পরিণত হয়। –273°C তাপমাত্রা অপেক্ষা কম তাপমাত্রা কল্পনা করা যায় না, কেননা সেক্ষেত্রে ঐরূপ তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তন ঋণাত্মক হবে। কিন্তু ঋণাত্মক আয়তন বাস্তবে সম্ভব নয়। সুতরাং চার্লস এবং গে-লুস্যাকের সূত্রানুযায়ী যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের অবলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ শূন্য হয় তাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা (Absolute zero of temperature) বলা হয়।
চার্লসের সূত্র প্রয়োগ করে যেকোনো গ্যাসের তাপমাত্রা ও ঘনত্বের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করা যায়। মনে করি, স্থির চাপে M ভরবিশিষ্ট কোনো গ্যাসের আয়তন V1, তাপমাত্রা T1 ও ঘনত্ব d1 এবং পরিবর্তিত অবস্থায় আয়তন V2, তাপমাত্রা T2 ও ঘনত্ব d2।
চার্লসের সূত্রানুযায়ী,
অর্থাৎ স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের কোনো গ্যাসের ঘনত্ব তার পরম তাপমাত্রার ব্যস্তানুপাতিক।
এখন আয়তনের মান বসালে সমীকরণটি দাঁড়ায়:
